রসূলুল্লাহ দঃ ’র ইশারায় দুই টুকরো হয়েছিল চাঁদ, দেখেছিলেন ভারতীয় রাজাও - Alyusuf1997.blogspot.com
হে মাহবুব! আপনি বলে দিন, ‘হে  মানবকুল, যদি    তোমরা       আল্লাহ্‌কে     ভালবেসে    থাকো    তবে  আমার   অনুসারী   হয়ে   যাও,   আল্লাহ্‌   তোমাদেরকে  ভালবাসেন    এবং    আল্লাহ্‌    তোমাদের    গুনাহ    ক্ষমা  করবেন; আর আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল, দয়ালু।

Pageviews

September 05, 2017

রসূলুল্লাহ দঃ ’র ইশারায় দুই টুকরো হয়েছিল চাঁদ, দেখেছিলেন ভারতীয় রাজাও

বিশ্বনবী (সা.)’র ইশারায় দুই টুকরো হয়েছিল চাঁদ, দেখেছিলেন ভারতীয় রাজাও

চাঁদ দুই টুকরো হওয়ার সাক্ষী রাজা চেরামানের নামে ভারতের কেরালা রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত মসজিদ। কারো কারো মতে এটাই ছিল ভারতের প্রথম বা সবচেয়ে পুরনো মসজিদ
১৪৪২ চন্দ্রবছরেরও আগে ১৪ই জিলহজ নূরনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)’র মোজেযার প্রকাশ হিসেবে তাঁর আঙ্গুলের ইশারায় পূর্ণ চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল।

আবু জাহলের নেতৃত্বে একদল মূর্তিপূজারী ও ইহুদি  জানায় যে, মুহাম্মাদ (সা.) যে আল্লাহর রাসূল তা তারা মেনে নেবে যদি তিনি চাঁদকে দ্বিখণ্ডিত করে দেখাতে পারেন। তখন রাসূল (সা.) আল্লাহর কাছে দোয়া করে আঙ্গুলের ইশারা করলে ওই অলৌকিক ঘটনাটি ঘটে।

এই প্রসঙ্গে হাদিস শরীফ➡
আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ ও খালীফা (রঃ)…… আনাস (ইবনে মালিক) (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, মক্কাবাসী কাফিররা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট মুজিযা দেখানোর জন্য দাবী জানালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করে দেখালেন। (সহীহ বুখারী শরীফঃ- ৩৩৭৬, খণ্ডঃ-০৬)

পবিত্র কুরআনের সুরা আল-কামারের প্রথম দুই আয়াতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে:  "কিয়ামত আসন্ন এবং চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছে। তারা কোনো নিদর্শন সরাসরি দেখলেও মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, ‘এতো চিরাচরিত জাদু’। "

ওই আরব মুশরিকরা এই মোজেজা অস্বীকার করে একে জাদু বলে অভিহিত করে। কিন্তু  উপস্থিত ইহুদিরা চাঁদ দুই ভাগ হওয়ার ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। কারণ, ওই ইহুদিরা তাওরাতে পড়েছিল যে হযরত মূসা (আ.)’র উত্তরসূরি হযরত ইউশা (আ.)’র জন্য মহান আল্লাহ চাঁদ ও সূর্যকে স্থির করে রেখেছিলেন।

রাসূল (সা.) চাঁদকে এত স্পষ্টভাবে দুই টুকরা করেন যে ওই দুই টুকরার ব্যবধানের মধ্যে হেরা পর্বত দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু আবু জাহল বলে ওঠে, “তিনি নজরবন্দি করেছেন। যেসব লোক বিদেশে গেছে তারা ফিরে এসে সমর্থন জানালে তখন বুঝব।” বিদেশ থেকে আসা লোকেরা দেশে ফিরে এসে এ ঘটনার সত্যতাকে সমর্থন করলেও আবু জাহল বলে, “ তিনি গোটা পৃথিবীর সব লোককে নজরবন্দী করেছেন।"

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত মালাবার রাজ্যের (বর্তমান কেরালা অঞ্চল) ততকালীন রাজা চক্রবর্তী ফারমাস (চেরামান পিরুমেল) আকাশে চাঁদ দুই টুকরো হয়ে যাওয়ার ওই অলৌকিক ঘটনাটি স্বচক্ষে দেখেছিলেন। যখন তিনি জানতে পারেন যে আরব দেশে শেষ নবীর আবির্ভাব ঘটেছে ও রাসূল (সা.)ই চাঁদ দ্বিখণ্ডিত করেছেন, তখন তিনি মক্কায় গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ভারতের ইতিহাস গ্রন্থ ‘তারিখে ফেরেশতা’য় ওই ঘটনা উল্লেখিত হয়েছে।  চেরামানের নামে ভারতের কেরালা রাজ্যে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।



মার্কিন মহাশূন্য গবেষণা সংস্থা নাসার নভোচারীদের মাধ্যমে তোলা ছবিতেও চাঁদের মধ্যে গভীর ফাটলের চিহ্ন বা দাগ দেখা গেছে এবং এ থেকে স্পষ্ট হয়, কোনো এক সময় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল।

ভারতীয় রাজা যে ওই  ঘটনা দেখেছিলেন তার লিখিত বিবরণের একটি প্রাচীন দলিল বর্তমানে লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসের লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত রয়েছে। ওই দলিলে ভারতীয় সেই রাজার ভ্রমণের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। ওই রাজা ভারতে ফেরার পথে ইয়েমেনে মারা যান।

হযরত মুসা (আ.)'র খোদায়ী লাঠির আঘাতে নীল দরিয়া দু-ভাগ হয়ে মাঝখানে শুকনো পথ বের হয়েছিল এবং ডুবে মরেছিল ফেরাউন ও তার সেনারা। অন্যদিকে বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও মহামানব হযরত মুহাম্মাদ (সা.) কোনো লাঠি ছাড়াই বহু দূরের চাঁদকে দ্বিখণ্ডিত করেন মহান আল্লাহর দেয়া ক্ষমতাবলে।
সোবহান আল্লাহ
সূত্রঃ উইকিপিডিয়া

No comments: