এর ঘালী বা চরমপন্থী শিয়াদের শ্রেণী বিভাগ: (২৪)
অধ্যক্ষ এম এ জলিল রহঃ
================================
উপরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চতুর্থ ফির্কার শিয়াদেরকে ঘালী বা চরমপন্থী শিয়া বলা হয়। এরা পুনরায় চব্বিশটি শাখায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। এদের মূল আক্বীদা হলো - ”হযরত আলী- ই- খোদা” (নাউযুবিল্লাহ)। এই আক্বীদার চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে গিয়েই তাদের মধ্যে এই চব্বিশটি উপ- শাখার সৃষ্টি হয়। সংক্ষেপে তাদের ইতিবৃত্ত ও আক্বীদা নিম্নে প্রদত্ত হলো:
অধ্যক্ষ এম এ জলিল রহঃ
================================
উপরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চতুর্থ ফির্কার শিয়াদেরকে ঘালী বা চরমপন্থী শিয়া বলা হয়। এরা পুনরায় চব্বিশটি শাখায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। এদের মূল আক্বীদা হলো - ”হযরত আলী- ই- খোদা” (নাউযুবিল্লাহ)। এই আক্বীদার চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে গিয়েই তাদের মধ্যে এই চব্বিশটি উপ- শাখার সৃষ্টি হয়। সংক্ষেপে তাদের ইতিবৃত্ত ও আক্বীদা নিম্নে প্রদত্ত হলো:
১। সাবাইয়্যা শিয়া: এরা আবদুল্লাহ ইবনে সাবা নামক ইহুদি চরের অনুসারী। চরমপন্থী এই শিয়া গ্রুপের আক্বীদা হলো - ”হযরত আলী -ই- খোদা”। হযরত আলী শাহাদত বরণ করার পর আবদুল্লাহ ইবনে সাবা প্রচার করে যে, ”তিনি মরেননি - ঘাতক আবদুর রহমান ইবনে মূলজেম হযরত আলীকে শহীদ করতে পারেনি - বরং একটি শয়তান হযরত আলীর সুরত ধারণ করেছিল। ইবনে মূলজেম তাকেই হযরত আলী মনে করে কতল করেছে। ঐ সময় হযরত আলী আকাশের মেঘ মালায় লুকিয়ে যান এবং বর্তমানের মেঘের গর্জন হযরত আলীরই গর্জন। মেঘের বিদ্যুত হচ্ছে হযরত আলীর তরবারী বা কোড়া। তিনি পৃথিবীতে আবার নেমে আসবেন এবং তাঁর শত্রুদের থেকে প্রতিশোধ নেবেন”।
এ কারণেই চরমপন্থী এই শিয়া গ্রুপ মেঘের গর্জন শুনলেই বলে উঠে ”আলাইকাচ্ছালাম আইয়ুহাল আমীর” অর্থাৎ হে আমিরুল মুমিনীন! আপনার উপর ছালাম বর্ষিত হোক। তাদের এ কুধারণা কুসংস্কারেরই ফলশ্রুতি। তাদের ধারণা মতে যদি সত্যি সত্যি হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মেঘ মালায় লুকিয়ে থাকতেন, তাহলে এখনই তাঁর শত্রুদের নিপাত করতেও সক্ষম হতেন। এত দীর্ঘ প্রতীক্ষার কি প্রয়োজন? (তোহফা ইসনা আশারিয়া)
২। মুফাদ্দালিয়া শিয়া: চরমপন্থী দ্বিতীয় শাখা হলো মুফাদ্দাল সাইরাফী নামক নেতার অনুসারী দল। প্রথম শাখার আক্বীদা তো এরা পোষণ করেই - তদুপরি আর একটু অগ্রসর হয়ে তারা বলে - ”হযরত আলীর সম্পর্ক আল্লাহর সাথে ঐরূপ - যেরূপ সম্পর্ক ছিল আল্লাহর সাথে ইছা নবী আলাইহিস সালামের”।
এদের আক্বীদা আর খৃষ্টানদের আক্বীদা এক। আল্লাহ ও বান্দাকে তারা এক মনে করে। তাদের আরো বিশ্বাস - নবুয়ত ও রিসালাতের ধারা খতম হয়ে যায়নি। যেসব বুযর্গের সাথে লাহুতি জগত (উর্দ্ধজগত) সম্মিলিত হয়, তাঁরা হলেন নবী। এই নবীগণ যখন মানুষকে হিদায়াতের আহবান জানান, তখন তাঁদেরকে বলা হয় রাসুল। এই চরমপন্থী মুফাদ্দালিয়া গ্রুপ থেকেই অতীতে নবুয়ত ও রিসালাতের ভন্ড দাবিদারদের উদ্ভব হয়েছিল। বর্তমানে কাদিয়ানী গ্রুপ এবং দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা কাছেম নানুতবীও কুরআনের খতমে নবুয়ত সংক্রান্ত আয়াতটির এভাবে অর্থ করেছে - ”তিনি নবীগণের ভূষণ ও আফযল নবী - তাঁকে শেষ নবী মনে করা জাহেলদের কাজ” (তাহযীরুন্নাছ)।
৩। ছারিগীয়া শিয়া: এই গ্রুপ ছারিগ নামক শিয়া নেতার অনুসারী। দ্বিতীয় মুফাদ্দালিয়া গ্রুপ এবং এই তৃতীয় গ্রুপের মতবাদ প্রায় একই রূপ। তবে পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, দ্বিতীয় গ্রুপের মতে যে কোন বুযুর্গের মধ্যেই আল্লাহ হুলুল (প্রবেশ) করতে পারেন। কিন্তু ছারিগীয়ারা এই হুলুল বা প্রবেশ নিম্ন লিখিত পাঁচজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে মনে করে। তাঁরা হলেন: নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত আব্বাছ, হযরত আলী, তাঁর দুই ভাই হযরত জাফর ও হযরত আকিল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম।
৪। বাজিইয়া শিয়া: চরমপন্থী ঘালী শিয়াদের চতুর্থ দল হলো বাজিইয়া গ্রুপ। বাজি ইবনে উইনুছ নামের এক শিয়া নেতার অনুসারি এরা এদের আক্বীদা হচ্ছে: ”শুধুমাত্র ইমাম জাফর সাদেক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর মধ্যেই খোদায়ীত্ব প্রবেশ করেছে - অন্য কারও মধ্যে নয়। তাদের মতে - আল্লাহ তায়ালা এক ব্যক্তির মধ্যেই প্রকাশিত হয়েছেন মাত্র। তবে তিনি দেহধারী নহেন”। তারা বলে - ”ইমাম জাফর সাদেকের পর অন্য কোন শিয়া ইমাম খোদা হতে পারবেন না। তবে তাদের নিকট ওহী অবতীর্ণ হবে এবং তাদের মেরাজও সংঘটিত হতে পারে”।
৫। কামিলিয়া শিয়া: আবু কামিল নামক জনৈক শিয়া নেতার অনুসারী এই দল। এজন্য তাদেরকে কামিলিয়া নামে আখ্যায়িত করা হয়। এদের চরমপন্থী আক্বীদা হচ্ছে ”আত্মা এক দেহ হতে অন্য দেহে প্রবেশ করতে পারে। কোন দেহ মরে গেলে বা ধবংস হয়ে গেলে তার আত্মা অন্য দেহ ধারণ করতে পারে”। তাদের ধারণা মতে ”আল্লাহর পবিত্র আত্মা প্রথমে আদমের মধ্যে সন্নিবেশিত হয়েছিল। ক্রমান্বয়ে শীশ পয়গাম্বরের মাধ্যমে অন্যান্য নবীগণের মধ্যেও আল্লাহর পবিত্র আত্মা স্থানান্তরিত হয়েছে”। তারা বলে - ”যেসব সাহাবা হযরত আলীর খিলাফত স্বীকার করেননি - তারা সবাই কাফির এবং হযরত আলীও কাফির - কেননা তিনি তাঁর ন্যায্য অধিকার দাবী করেননি”। (নাউযুবিল্লাহ)
এরা অভিমানী ও হতাশ প্রেমিক শিয়া। নেতার উপর অভিমান করেই তারা নেতার বিরুদ্ধে কুফরী ফতোয়া জারি করে বসে আছে।
৬। মুগীরিয়া শিয়া: এই চরমপন্থী শাখাটি হলো মুগীরা ইবনে সাঈদ আজারীর অনুসারী। এদের আক্বীদা নিম্নরূপ: (ক) আল্লাহ স্বশরীরী স্বত্বা। আল্লাহর আকার একজন পুরুষের আকারের মত। তাঁর মাথায় নূরের টুপি আছে। তাঁর ক্বলব আছে। সেখান থেকেই যাবতীয় হিকমত উৎসারিত হয়ে থাকে। (খ) শয়তান হযরত আবু বকর ও হযরত ওমরকে কুফরী করার পরামর্শ দিলে তাঁরা শয়তানের পরামর্শ অনুযায়ী কুফরী করে বসে। তখন শয়তান এই বলে বিদায় নেয় ”আমি তোমাদের থেকে পৃথক হয়ে গেলাম”। এই মুগীরিয়া শিয়াদের মতে হযরত আবু বকর ও হযরত ওমরের কুফরী প্রসঙ্গেই নাকি কুরআনের নিম্ন আয়াতটি নাজিল হয় মাছালুহুম কামাছালিশ শাইতন, ইজ ক্বলা লিল ইনছানিকফুর, ফালাম্মা কাফারা ক্বলা ইন্নী বারিউম মিনকা” অর্থাৎ - ”তাদের উপমা হলো শয়তানের ন্যায় - যখন সে কোন মানুষকে বলে - তুমি কুফরী কর। যখন সে কুফরী করে বসে - তখন শয়তান বলে- আমি তুমা হতে বিমুখ হলাম”। (গ) হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর পুত্র ইমাম হাসানের প্রপৌত্র মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ হচ্ছেন ভবিষ্যতের প্রতীক্ষিত ইমাম মাহদী। পর্বতমালায় এখনও অবস্থান করছেন।
৭। জানাহিয়া শিয়া: হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর ভাই শহীদ জাফর তাইয়ারের পুত্র আবদুল্লাহর নাতী - আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াবিয়ার অনুসারী এই দল। জাফর তাইয়ার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর উপাধী ছিল ”জুল জাহানাঈন”। তারা এজন্য তাদের পরিচিতি হিসেবে জানাহিয়া শিয়া বলে প্রচার করে। এদের আক্বীদা পঞ্চম দলের অনুরূপ: অর্থাৎ আত্মার স্থানান্তরে এরা বিশ্বাসী। তারা বলে - ”আল্লাহর আত্মা নবীগণ হয়ে হযরত আলী ও তাঁর তিন পুত্রের মধ্যে এসে সমাপ্ত হয়েছে। এ ধারা পূণরায় হযরত আলীর ভাই জাফর তাইয়ারের বংশে আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াবিয়ার মধ্যে স্থান লাভ করেছে। তিনি মৃত্যুবরণ করেননি, বরং ইস্পাহানের একটি পাহাড়ে জীবিত অবস্থান করছেন”। এই চরমপন্থীরা কিয়ামতকে অস্বীকার করে এবং সব মৃতজন্তু ও অন্যান্য হারাম বস্তুকে হালাল বলে বিশ্বাস করে। (উল্লেখ্য - অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত হারামকে হালাল মনে করা কুফরী)
৮। বয়ানিয়া শিয়া: চরমপন্থী শিয়াদের অষ্টম গ্রুপের নাম বয়ানিয়া। নজদের বনু তামীমের বয়ান ইবনে ছামআন - এর অনুসারী এই দল। এদের ধারণামতে - ”আল্লাহ তায়ালা একজন মানুষের আকৃতিধারী এবং আল্লাহর আত্মা প্রথমে হযরত আলীর মধ্যে, তারপর তাঁর অন্য স্ত্রীর পুত্র মুহাম্মাদ ইবনে হানফিয়ার মধ্যে, তারপর তার পুত্র আবু হাশেমের মধ্যে প্রবেশ করেছে”। এরা মুহাম্মাদ ইবনে হানফিয়াকে ইমাম মানে - ইমাম হাসান ও হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে মানেনা।
৯। মনসুরিয়া শিয়া: আবু মনসুর আজালীর অনুসারীদেরকে মনসুরিয়া শিয়া নামে অভিহিত করা হয়। এদের আক্বীদা হচ্ছে: ”রিছালাতের দরজা বন্ধ হবে না। শরীয়তের বিধি বিধান সবই উলামা ও ফক্বিহগণের মনগড়া। বেহেস্ত- দোযখ বলতে কোন বস্তু নেই”। ইমাম বাকের রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পর তাদের ইমাম হচ্ছেন আবু মনসুর।
১০। গামামিয়া শিয়া: এদের আক্বীদা হচ্ছে- আল্লাহ তায়ালা বসন্তকালে মেঘ মালায় ভর করে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন এবং সমগ্র পৃথিবী ভ্রমণ করে পুনরায় আকাশে আরোহন করেন। এ কারনেই বসন্ত মৌসুমে পৃথিবী ধনধান্যে, ফুলে ফলে সুশোভিত হয়ে উঠে।
১১। তাফভিজিয়া শিয়া: এদের আক্বীদা ও বিশ্বাস হচ্ছে: ”আল্লাহ তায়ালা হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সৃষ্টি করে তাঁর হাতে সৃষ্টির ভার অর্পন করেছেন। তিনি নিজে হচ্ছেন পৃথিবীর অবশিষ্ট বস্তুরাজীর মহা স্রষ্টা”।
এদের কেউ কেউ আবার হযরত আলীকে পৃথিবীর স্রষ্টা বলে বিশ্বাস করে। আবার কেউ বিশ্বাস করে - ”নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত আলীকে যৌথভাবে পৃথিবী সৃষ্টির দায়িত্ব অর্পন করা হয়েছে।” এ কারণেই তাদেরকে তাফভিজিয়া শিয়া বলা হয়। তাফভিজ অর্থ - নিজের ক্ষমতা অন্যের উপর ন্যাস্ত করা।
১২। খাত্তাবিয়া শিয়া: চরমপন্থী শিয়াদের এই দলের নেতা হলো আবুল খাত্তাব আসাদী। এদের আক্বীদা হচ্ছে-
”নবীগণ হলেন প্রকৃত ইমাম এবং আবুল খাত্তাব একজন নবী। অন্যান্য নবীগণ আবুল খাত্তাবের আনুগত্য করাকে মানুষের উপর ফরয করে দিয়েছেন”। আর এক কদম অগ্রসর হয়ে এরা বলে - ”সমস্ত ইমামগণই খোদা, ইমাম হাসান - হোসাইনের পুরুষ সন্তানগণ সকলেই আল্লাহর সন্তান ও প্রিয়। ইমাম জাফর সাদেক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু খোদা। তাদের নেতা আবুল খাত্তাব হযরত আলী ও ইমাম জাফর সাদেকের চেয়েও উত্তম”।
এরা এদের স্বপক্ষীয় লোকদের পক্ষে এবং বিপক্ষগণের বিরুদ্ধে মিথ্যা স্বাক্ষ্য প্রদানকে বৈধ মনে করে। তাদের নেতা নিহত হওয়ার পর এরা কয়েকগ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক গ্রুপ বলে- ”আবুল খাত্তাবের পর মা'মার তাদের ইমাম”। আল্লাহর ইবাদতের ন্যায় তারা মা'মার - এর ইবাদত শুরু করে দেয়। তাদের মতে - ”দুনিয়ার ধন - সম্পদ ও অন্যান্য নেয়ামতসমূহই বেহেস্ত এবং অমঙ্গল ও মুসিবত সমূহই দোযখ”। এরা হারাম বস্তুকে হালাল মনে করে এবং ফরয সমূহ বর্জন করে। তাদের অন্য গ্রুপের দাবি হলো - আবুল খাত্তাবের হত্যার পর বাজি' নামক ব্যক্তি তাদের ইমাম। তাদের বিশ্বাস: প্রত্যেক মুমিনের নিকটই ওহী আসে”। তাদের তৃতীয় গ্রুপের ধারণা - ”আবুল খাত্তাবের পর তাদের ইমাম ওমর ইবনে বয়ান আজালী”। (আমাদের দেশের কিছু ভন্ড ফকির তাদের অনুসারী)।
১৩। মা'মারিয়া শিয়া: এ দল আবুল খাত্তাবের পর মা'মারকে তাদের নেতা বলে বিশ্বাস করে এবং শরীয়তের যাবতীয় আইন কানুন তার উপর সোপর্দ - বলে আক্বীদা পোষণ করে। এরা বলে - ”ইমাম জাফর সাদেক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন নবী - তারপর নবী ছিলেন আবুল খাত্তাব। এরপর তাদের নেতা মা'মার হচ্ছেন শেষ নবী। তিনি যাবতীয় বিধি নিষেধ তুলে দিয়েছেন এবং শরীয়তের বাধ্যবাধকতা রহিত করেছেন ”। এরা মূলত: দ্বাদশ (ইসনা আশারিয়া) গ্রুপেরই একটি উপশাখা মাত্র।
১৪। গোরাবিয়া শিয়া: এই চরমপন্থী শিয়াদের নামকরণ হয়েছে ”গোরাব” বা কাক শব্দ থেকে। এদের দৃঢ় বিশ্বাস - ”এক কাক যেমন আরেক কাকের সদৃশ্য, এক মাছি আর এক মাছির সদৃশ্য - তদ্রুপ শারিরীক গঠনে হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সদৃশ্য। আল্লাহ তায়ালা হযরত জিব্রাঈলকে হযরত আলীর নিকট প্রেরণ করেছিলেন। শারিরীক গঠনের সাদৃশ্যের কারণে জিবরাঈল ভূল করে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - এর নিকট রিছালাতের দায়িত্ব অর্পন করে ফেলেছেন”। (নাউযুবিল্লাহ) এ কারণেই গোরাবিয়া শিয়া সম্প্রদায় হযরত জিবরাঈলকে অভিসম্পাত (লানত) দিয়ে থাকে। তাদের এক কবি বলেন: ”জিবরাঈল আমিন গলদ করে রিছালাতকে আলী হায়দার থেকে অন্যত্র নিয়ে গেছেন”। হযরত গাউসুল আযম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু গুনিয়াতুত ত্বালেবীন গ্রন্থে এদেরকে ইসলামের ইয়াহুদী সম্প্রদায় বলেছেন।
১৫। জুবাবিয়া শিয়া: জুবাব অর্থ - মাছি। এক মাছি অন্য মাছির সদৃশ। তারা বলে - ”হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন আল্লাহ - সদৃশ। তবে তিনি নবী ছিলেন”।
আল্লাহ তাদের ধবংস করুক। জুবাব বা মাছির সাদৃশ্যতার উপমা নবী ও আল্লাহর ক্ষেত্রে জুড়ে দেয়ার করণে এই চরমপন্থী শিয়াদেরকে জুবাবিয়া শিয়া বলা হয়।
১৬। যাম্মিয়া শিয়া: 'যাম্মুন' আরবী শব্দ। অর্থ হলো বদনাম আরোপ করা। এই সম্প্রদায়ের শিয়াগণ নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম - এর উপর এই অপবাদ আরোপ করে যে, ”হযরত আলী হচ্ছেন খোদা এবং তিনি হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর দিকে লোকদেরকে আহবান করার জন্য প্রেরণ করেছিলেন। কিন্তু তিনি তা না করে নিজের জন্যই, আল্লাহ বলে দাবী করে বসলেন।
তাদের মধ্যে সমঝোতা স্বরূপ নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু উভয়কেই আল্লাহ বলে স্বীকার করে নেয়া হয়। তবে এক নম্বর আর দুই নম্বর নিয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ থেকে যায়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ পাক পাঞ্জাতন (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), হযরত আলী, ফাতিমা, হাসান ও হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম) খোদা বলে বিশ্বাস করে। (নাউযুবিল্লাহ)।
১৭। ইসনাইনিয়া শিয়া: এরা যাম্মিয়া গ্রুপের উপশাখা। তারা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যাম্মিয়াদের তফসিল মতে আল্লাহ বলে আক্বীদা পোষণ করে। তারা যাম্মিয়াদের দ্বিতীয় উপশাখা বলে ইসনাইনিয়া নামে খ্যাত।
১৮। খামছিয়া শিয়া: এরা যাম্মিয়াদের তৃতীয় উপশাখা। এরা পাক পাঞ্জাতনকে ইলাহ বা আল্লাহ বলে স্বীকার করে। এ জন্য এদের পৃথক নামকরণ করা হয়েছে খামছিয়া বা পঞ্চ খোদায় বিশ্বাসী।
১৯। নাসিরিয়া শিয়া: এই চরমপন্থী শিয়াদের অপর নাম আলভী শিয়া। এরা সিরিয়ার হিমস, হলব ও উত্তর সিরিয়ায় বসবাস করে। এদের আক্বীদা হচ্ছে - ”আল্লাহ তায়ালা হযরত আলী ও তাঁর বংশধরগণের মধ্যে প্রবেশ করেছেন”। তবে এরা আল্লাহ অর্থে আমীরকে রূপক হিসাবে বুঝায়।
২০। ইসহাকিয়া শিয়া: ইসহাক নামীয় জনৈক শিয়া নেতার অনুসারী এই দলটি। এরা বলে - ”এই পৃথিবী অতীতে কখনও নবী থেকে শূন্য ছিলনা এবং ভবিষ্যতেও শূন্য থাকবেনা। আল্লাহ - হযরত আলীর মধ্যে আছেন”। (কাদিয়ানিরাও একথাই বলে)।
২১। ইলবাইয়া শিয়া: ইলবা ইবনে আরওয়া আসাদীর অনুসারীগণকে ইলবাইয়া শিয়া বলা হয়। এদের মতে - ”হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হলেন খোদা এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে উত্তম। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আলীর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেছেন”। (নাউযুবিল্লাহ)।
২২। রাজজামিয়া শিয়া: এই সম্প্রদায় মুহাম্মাদ ইবনে হানফিয়া, তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ - এর পুত্র আলী, তার পুত্র আবুল মনসুর কে ইমাম বলে মান্য করে। এরা ইতিহাসখ্যাত আবু মুসলিম খোরাসানীকে খোদা বলে স্বীকার করে। হারামকে হালাল বলে স্বীকার করা এদের আক্বীদা। (আবু মুসলিম খোরাসানী আব্বাসীয় হুকুমত প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রেখেছিল - লেখক)।
২৩। মুকান্নাইয়া শিয়া: ইমাম হোসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু- এর পর মুকান্নাকে এরা খোদা বলে স্বীকার করে।
২৪। ইমামিয়া শিয়া: ”ইমামত” মতবাদে বিশ্বাসী বলে এদেরকে ইমামিয়া শিয়া বলা হয়। এদের বিশ্বাস - ”নবুয়াত ও রিসালাত” এর মধ্যে হযরত আলী নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে অংশীদার। এই ফির্কা খিলাফতে বিশ্বাসী নয়। এরা বলে - ”হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক তাঁর উত্তরাধিকারী নিযুক্ত হয়েছিলেন - কিন্তু হযরত আবু বকর ও হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা খিলাফত বা নির্বাচন পদ্ধতি আবিষ্কার করে জনগণের রায়ে খলিফা হয়ে যান। তাদের মতে ইমামত বা ঐশী মনোনয়নই ইসলামের সঠিক পদ্ধতি - খিলাফত হলো প্রতারণামূলক নির্বাচন পদ্ধতি।” (দেখুন - ”মাওলার অভিষেক” বইটি)। এই ফির্কাটি পুনরায় ৩৫ টি উপদলে বিভক্ত।


No comments:
Post a Comment